ফিচার বাংলাদেশ রাজনীতি সর্বশেষ জীবন-শিল্প

এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ বক্তব্য: এরশাদ

এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ বক্তব্য: এরশাদ

নিজেকে নির্যাতিত-নিপীড়িত দাবি করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ বক্তব্য। বুধবার রাজধানীর গুলশানে একটি কনভেনশন সেন্টারে নিজের ৯০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেন, আমার মতো নির্যাতিত, নিপীড়িত নেতা বাংলাদেশে আর একজনও নেই। এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ বক্তব্য।

তিনি আরো বলেন, স্ব-ইচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর পাঁচদিনের মাথায় আমাকে জেলে যেতে হয়েছে। আমার ওপর নানারকম অত্যাচার নির্যাতন চালানো হয়েছে। মনে জোর ছিল বলে টিকে আছি। কেউ আমাকে দমাতে পারেনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, আমার শেষ কথা জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করুন। দলকে আগামীতে ক্ষমতায় আনুন।

অনুষ্ঠানে হুইল চেয়ারে চড়ে উপস্থিত হন এরশাদ। এসময় দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।

প্রসঙ্গত, ১৯৮২ সালে বিচারপতি সাত্তারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি হন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ক্ষমতায় থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন তার দল জাতীয় পার্টি। সম্মিলিত বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এই স্বৈরশাসক।

পরে বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এরশাদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেয়। এরপর ক্ষমতায় আসেন খালেদা জিয়া। পতনের পর এরশাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ৪২টি মামলা হয়।

তিনটি মামলায় তার সাজার আদেশ হয় এবং একটিতে সাজা ভোগ করেন। খালেদা সরকারের মেয়াদের পুরোটাই জেল খাটতে হয় এরশাদকে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে কারামুক্ত হন তিনি।

Comments