ফিচার বাংলাদেশ সর্বশেষ

চাকরী ও বিদেশের প্রলোভনে ২ডজন পরিবারকে নিঃস্ব করেছে পাংশার এই যুবক

চাকরী ও বিদেশের প্রলোভনে ২ডজন পরিবারকে নিঃস্ব করেছে পাংশার এই যুবক

প্রতারণা বা ধোকাবাজি যেন এখন সারাদেশে চরম পর্যায়ে চলে গেছে। এমনি এক প্রতারকের পাল্লায় পরে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে আজ নিঃস্ব হয়ে পরেছে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের বসাকুস্টিয়া গ্রামের হাকিম মৃধার ছেলে বাদশা মৃধা। বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে হারুন অস্বীকার করে, পরে বাদশার স্ত্রী বাদী হয়ে হারুনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে।

গত একবছর ধরে বাদশা মৃধার ছেলেকে বিদেশ দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ভাবে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় একই উপজেলার সাম্রাইল ইউনিয়নের আশুরহাট গ্রামের প্রতারক হারুন অর রশিদ। প্রতারক হারুন অর রশিদ নানা ভাবে বাদশার ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে ভুলিয়ে ভালিয়ে ৫ লক্ষ টাকা নগদে নেয় এবং বিদেশ যাবার পরে আরো ১ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে জানান।

শুধু এই পরিবারই নয় এমন প্রায় দুই ডজন পরিবারকে পথে বসিয়েছেন হারুন। এখন গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী বাদশা মৃধা রাজবাড়ী টামসকে বলেন, ভাই আমি আজ নিঃস্ব , আজ আমি পথের ভিখারী হয়ে গেছি ,হারুন আমার এই ছেলেকে (আকাশকে দেখিয়ে) বিদেশ পাঠানোর কথা বলে ৫ লক্ষ টাকা নগদ নিয়েছে।আমি গরীব মানুষ আমি আমার গরু ছাগল, জমি জায়গা সব বিক্রি করে ওকে টাকা দিছি। আজ একবছর হয়ে গেলো ও আমার ছেলেকে বিদেশ ও পাঠাচ্ছে না। আবার আমি টাকা ফেরত চাইলে টাকা ও দিচ্ছে না। বলে টাকা আমি নেই নাই। আমি ওর নামে কোর্টে মামলা করেছি, কোর্ট ওর নামে ওয়ারেন্ট জারি করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। আমি বিচার না পাইলে পথের ফকির হইয়া যাবো ভাই।

এই বিষয়ে বাদশার বড় ভাই আবুল কাশেম বলেন, আমি নিজে বাদশার জমি কিনেছি এবং ও আমার থেকে টাকা নিয়ে ওই হারুন কে টাকা দিছে।

এলাকা বাসীর অনেকের সাথেই কথা বলে জানা যায় প্রতারক হারুন সত্যি টাকা নিছে।

তবে এই ব্যাপারে অভিযুক্ত হারুনের সাথে যোগাযোগ করলে সে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন।

এই ব্যাপারে সাম্রাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, হারুন একটা বিশ্ব বাটপার,ও শুধু বাদশা না আরো অনেকের থেকেই টাকা মেরে খেয়েছে। আমি অনেক গুলা শালিস করে দিছি। কিন্তু কাউকেই টাকা দেয় না। আমি চাই ওর আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।

এ বিষয়ে পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ্ জানান, এ বিষয়ে আমার জানা নাই। থানায় এখনও ওয়ারেন্ট এর কাগজ আসে নাই। ।ওয়ারেন্ট হাতে পেলে অবশ্যই অভিযুক্তকে আমরা গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাবো।

Comments