ফিচার বাংলাদেশ রাজনীতি ক্যাম্পাস সর্বশেষ

ছাত্রীরা বাইরে, খোঁজ নেননি প্রভোস্ট-প্রক্টর

ছাত্রীরা বাইরে, খোঁজ নেননি প্রভোস্ট-প্রক্টর

প্রভোস্ট অধ্যাপক জিনাত হুদার পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে রোকেয়া হলের গেইটে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন হলটি পাঁচ আবাসিক ছাত্রী। ১৫ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়ে গেলেও হল প্রভোস্ট তাদের দেখতে আসেননি। এদিকে, হল প্রভোস্ট পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রীরা।

জানা যায়, হল সংসদ নির্বাচনে কারচুপির দায় নিয়ে রোকেয়া হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, পুনরায় হল সংসদসহ ডাকসু নির্বাচন দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দাবিতে বুধবার রাত পৌনে ৯টা থেকে রোকেয়া হলের ৫ ছাত্রী অনশনে বসেন।

অনশনকারী ছাত্রীরা হলেন- দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণী শফিক দীপ্তি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাফিয়া সুলতানা, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রমী খীসা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের জয়ন্তী রেজা ও একই বিভাগের শেখ সায়িদা আফরিন শাফি।

তাদের মধ্যে শ্রবণী শফিক দীপ্তি স্বতন্ত্র জোটের প্যানেলে ডাকসু নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং বাকিদের মধ্যে দুজন ছাত্র ফেডারেশনের প্যানেল ও একজন স্বতন্ত্রভাবে রোকেয়া হল সংসদে নির্বাচন করেছেন। আর একজন কোনো পদেই নির্বাচন করেননি।

বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার নেতাকর্মীসহ রোকেয়া হলের সামনে আসেন। তিনি অনশনকারী ছাত্রীদের চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তারা না যাওয়ায় তিনি উপাচার্যকে ফোন করে এ পাঁচ ছাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেন। অনশনে বসা ছাত্রীরা এসব তথ্য দিয়েছেন।

এদিকে, হল গেইটে ছাত্রীরা ১৫ ঘণ্টা অনশনে থাকলেও একবারের জন্যও দেখতে আসেননি হল প্রভোস্ট অধ্যাপক জিনাত হুদা। প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীও তাদের সঙ্গে দেখা করেননি। তবে রাত ১টার দিকে তাদের দুজনকেই স্মৃতি চিরন্তনের (ভিসি চত্বর) সামনে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে অনশনকারী শ্রবণী শফিক দীপ্তি বলেন, প্রভোস্ট নাকি আমাদের অভিভাবক, কিন্তু আমাদের দেখতে একবারও আসতে পারলেন না। আমরা মনে করি, তিনি আমাদের অভিভাবক হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। এজন্য আমরা তার পদত্যাগ চাই। একই সঙ্গে বাকি দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে জানতে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জিনাত হুদার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি কেটে দেন। পরবর্তীতে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তার নাম্বার ব্যস্ত পাওয়া যায়। এজন্য এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Comments