ফিচার বাংলাদেশ ক্যাম্পাস সর্বশেষ

ডাকসু গঠনতন্ত্র নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক

ডাকসু গঠনতন্ত্র নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠনতন্ত্র ‘যুগোপযোগী’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনী/পরিমার্জনের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোকে নিয়ে একটি বৈঠক ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার একাধিক ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ জার্নালকে চিঠি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রাধ্যক্ষ ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠনতন্ত্র সংশোধনী/পরিমার্জন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক এই চেয়ারম্যান ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ওই চিঠির অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সকল সহকারী প্রক্টরকে প্রেরণ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার জন্য ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী/পরিমার্জনের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য মাননীয় উপাচার্য একটি কমিটি গঠন করেছেন।’

ছাত্র সংগঠনসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের উদ্দেশ্য করে লেখা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, এই জন্য ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের সঙ্গে আগামী ১০ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার)একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন লাউঞ্জে বেলা ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় উপস্থিত হয়ে অথবা লিখিতভাবে আপনার সংগঠনের বক্তব্য অথবা সুপারিশমালা উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ করছি। আপনার কাজের সুবিধার্থে বিদ্যমান ডাকসু গঠনতন্ত্রের একটি কপি চিঠির সঙ্গে প্রেরিত হল।

 

কমিটির আহ্বায়ক জানান, ৫ সদস্যের এই কমিটির অন্য চারজন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, কবি জসীম উদ্দীন হলের প্রাধ্যক্ষ ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এবং শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সুপ্রিয়া সাহা।

এছাড়া ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন-৪) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কমিটিকে সার্বিক বিষয়ে সহায়তা প্রদান করবে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ১৯৯৮ সালে সর্বশেষ ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক সময় চলে গেছে। এটা নিয়ে এ সময় কাজ করা হয়নি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সে কারণে এটি করতে হলে বিদ্যমান গঠনতন্ত্র সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা- নাকি কিছু সংযোজন বিয়োজন প্রয়োজন, ছাত্র সংগঠনসমূহের পরামর্শক্রমে সেই নিরিখে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হবে। উপাচার্য সেটি সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করবেন।

এই কমিটি মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের সুপারিশ করবে বলেও জানান তিনি।

চিঠির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, কমিটির আহ্বায়ক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে ডাকসু নির্বাচনের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, খুব সুন্দর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি পেয়েছি। যেহেতু ১৯৯৮ সালের পর গঠনতন্ত্র নিয়ে কাজ হয়নি, তাই বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করা উচিত। আমাদের প্রস্তাবনাসমূহ ১০ জানুয়ারি তুলে ধরব।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, চিঠির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে চিঠিটি গ্রহণ করব।

Comments