ফিচার বাংলাদেশ রাজনীতি ক্যাম্পাস সর্বশেষ

ডাকসু নির্বাচন: হলে ভোটকেন্দ্রের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামছে সংগঠনগুলো

ডাকসু নির্বাচন: হলে ভোটকেন্দ্রের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামছে সংগঠনগুলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র আবাসিক হলে স্থাপনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে গঠিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে অন্যান্য ছাত্র সংগঠন। বিরোধিতাকারী ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে, প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে শুধু ছাত্রলীগের দাবির প্রতিফলন ঘটেছে। হলে ভোটকেন্দ্র রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচন করতে চাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রনেতারা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।

ছাত্রনেতারা বলছেন, প্রহসনের নির্বাচনে যাওয়া আর না যাওয়া একই কথা। তবে ছাত্রলীগসহ ৬টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির দাবি- উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ইস্যুতে একটি মহল বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে। কমিটির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বুধবার (৩০ জানুয়ারি) এ অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পোলিং বুথ হলের অভ্যন্তরে স্থাপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতবর্ষী ঐতিহ্য ও প্রথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৬৫ শতাংশই হলে অবস্থান করে। তা ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক, প্রশাসনিক ও সহ-পাঠ্য কার্যক্রম হলকেন্দ্রিক। হল সংসদের কার্যক্রমও হলের আবাসিক বৈশিষ্ট্যকে উপজীব্য করেই। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হলের সামষ্টিক কার্যক্রম সিসিটিভির আওতাভুক্ত এবং 'ডাকসু' ও হল সংসদ নির্বাচন-২০১৯ সামনে রেখে ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবির আলোকে ইতিমধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। যার ফলে শুভ কাজের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই সাধারণ শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব বেছে নিতে পারবে। প্রতিষ্ঠিত প্রথা, আইনি অনুমোদন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নিশ্চয়তার আলোকে বলা যায়, পোলিং বুথ নিয়ে নূ্যনতম বিভ্রান্তির অবকাশ আছে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাবির সিন্ডিকেট সভায় ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধি ও গঠনতন্ত্র সংশোধন অনুমোদন করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনধিক ৩০ বছর বয়সী নিয়মিত শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবে। আবাসিক হলেই ভোটকেন্দ্র স্থাপিত হবে। 

হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ছাত্রদল ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী বলেন, প্রশাসন ও সিন্ডিকেট একতরফা নির্বাচনের জন্য যা যা করা দরকার, তাই করছে। বিরোধী সব দলের দাবিকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যতটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার সবই হয়েছে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের দ্বারা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলোর অভিন্ন দাবিগুলোকে অগ্রাহ্য করেছে। প্রশাসনের কাছে বিষয়গুলো পুনরায় বিচার-বিশ্নেষণ করার অনুরোধ থাকবে। প্রহসনের নির্বাচনে যাওয়া আর না যাওয়া একই কথা। 

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ভোটকেন্দ্র হলে স্থাপন করার বিপক্ষে আমাদের অবস্থান বরাবরই ছিল। হলে নির্বাচন হলে সুষ্ঠু ভোট হবে না। তবে সব ছাত্র সংগঠনের দাবিকে উপেক্ষা করে শুধু ছাত্রলীগের দাবি মেনে নিয়েছে প্রশাসন। এতে প্রশাসন প্রহসনের নির্বাচনের প্রথম ধাপে পা দিয়েছে। তারা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবেন এবং প্রশাসনকে দাবি মানতে বাধ্য করবেন। যদি দেখা যায়, নির্বাচনের কোনো পরিবেশই নেই; তারা নিজেদের ছকে নির্বাচন করতে চাচ্ছে, তাহলে সব ছাত্র সংগঠন মিলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন। প্রয়োজনে সবাই মিলে নির্বাচন বর্জন করবেন।

ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি দলের সব দাবি মেনে নিলেও বিরোধী কোনো ছাত্র সংগঠনের দাবি মেনে নেয়নি। প্রশাসন হলে ভোটকেন্দ্র রেখে একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচন করতে চাচ্ছে। আমরা বারবার বলছি একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র করার জন্য। একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র করাসহ আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে যাব। আমাদের দাবি মেনে না নিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে পারি।

ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের অবস্থান তার বিরুদ্ধে। আমাদের দাবি পুনর্বিবেচনার জন্য ইতিমধ্যে প্রশাসনকে অবহিত করেছি। এসব দাবি নিয়ে সামনের সপ্তাহ থেকে আমরা আন্দোলন-সংগ্রামে যাব। আমাদের সামগ্রিক দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মানতে বাধ্য করে নির্বাচনে যাব। 

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১১টি ছাত্র সংগঠনের সুপারিশকে অগ্রাহ্য করে শুধু একটি ছাত্র সংগঠনের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করেছে। একটি সংগঠনের সুপারিশের ভিত্তিতে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের দাবিগুলো নিয়ে বসবে এবং বিচার-বিশ্নেষণ করে দেখবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ'-এর আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আমাদের দাবির প্রতিফলন ঘটেনি। আমাদের মৌলিক দাবি ছিল- ভোটকেন্দ্রগুলো হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে স্থানান্তর করা। আমাদের দাবিকে উপেক্ষা করে শুধু ছাত্রলীগের দাবি মেনে নিয়েছে প্রশাসন। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রায় সব ছাত্র সংগঠনই একমত। আশা করছি, প্রশাসন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।

Comments