ফিচার বাংলাদেশ সর্বশেষ

পর্দা উঠলো অমর একুশে বইমেলার

পর্দা উঠলো অমর একুশে বইমেলার

‘বিজয়: ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ নবপর্যায়’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) দ্বার খুলল মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার। এদিন বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই পর্যন্ত ১৬ বার অমর একুশে বইমেলা উদ্ধোধন করলেন সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

মেলা উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী এবারের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত চার কবি-সাহিত্যিকের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এবার কবিতায় কাজী রোজী, কথাসাহিত্যে মোহিত কামাল, প্রবন্ধ ও গবেষণায় সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে আফসান চৌধুরী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পাকিস্তানি আমলের গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো নিয়ে সংকলিত ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচনও করেন প্রধানমন্ত্রী। বইটির মোট ১৪ খণ্ড প্রকাশিত হবে। গত সেপ্টেম্বরেই গণভবনে প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

পুরস্কার প্রদান ও মোড়ক উন্মোচনে পর প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বইমেলা শুধু কেনাবেচা নয়, বইমেলা বাঙালির প্রাণের মেলা। এখানে লেখক-পাঠক-বইপ্রেমীদের মিলনমেলা ঘটে।

বইমেলার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখন প্রায়ই বইমেলায় আসতাম। এখনতো সরকারে বলে অনেকটা বন্দিজীবনেই থাকতে হয়। নিরাপত্তার কারণে অন্যের যেন সাধারণ মানুষের যেন অসুবিধা না হয়, সেজন্য আসি না। তবু সবসময় বইমেলায়ই মন পড়ে থাকে।

বইয়ের চাহিদা কখনো শেষ হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনতো সব ডিজিটাল হয়ে গেছে। মোবাইল বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে বই পড়ে সবাই। কিন্তু আমরা যত যান্ত্রিকভাবেই বই পড়ি না কেন, নতুন মলাট খুলে পৃষ্ঠা উল্টিয়ে বই পড়ার যে আনন্দ, সেটা অনুভব হয় না। অবশ্য অনলাইনে বই থাকলে সবার কাছে পৌঁছানো যায়, সেটাও জরুরি।

সরকার দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে, বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে চলবে, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে উন্নত সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ আমাদের বাংলাদেশ, সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ ও মিশরের লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনীর সভাপতি ফরিদ আহমেদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী রামেন্দু মজুমদার।

অনুষ্ঠানে সুরের ধারার শিল্পীরা শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের পর পুনরায় সুরের ধারায় শিল্পীরা সূচনা সংগীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন। এরপর ভাষা শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য রাখেন।

আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য বাঙালির প্রাণের মেলার দ্বার উন্মুক্ত হলো। লেখক-প্রকাশক-পাঠক আর সাহিত্যপ্রেমীরা আজ থেকে মেতে উঠবে বইয়ের ঘ্রাণে, লিখনীর উচ্ছ্বাস উদ্বেগে। মেতে উঠবে আলোচনা-আড্ডায়। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা চলবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত নয়টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল আটটা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে মেলার সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি’র আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

এবারের গ্রন্থমেলা আয়োজন নিয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক সারাবাংলা’কে বলেন, ‘‘বায়ান্ন’র চেতনা থেকে একাত্তর। যার ভেতরে জড়িয়ে আছে ৫৪, ৬২, ৬৬ ও ৬৯। বাঙালির স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা অর্জনের এই পথচলাকে এবার উদযাপন করা হবে মেলাজুড়ে। তিনি আরও বলেন, এর জন্য এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বিজয়: বায়ান্ন থেকে একাত্তর (নব পর্যায়)’। সেইসঙ্গে, ২০২০ সালে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের যাত্রাও শুরু হবে এ মেলা থেকে।’’

এবারের বইমেলা পাঠকবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। তিনি জানান, মেলায় ছয় শতাধিক স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া থাকবে ৪২টি প্যাভিলিয়ন। বাংলা একাডেমির ভেতরে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০০টি স্টল বরাদ্দ থাকবে বলেও তিনি জানান।

Comments