ফিচার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সর্বশেষ শিক্ষা সোশ্যাল মিডিয়া

পাবজি খেলতে খেলতে কিশোরের মৃত্যু!

পাবজি খেলতে খেলতে কিশোরের মৃত্যু!

ভারতের মধ্য প্রদেশে পাবজি খেলতে খেলতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে এক কিশোর। মঙ্গলবার দুপুরের খাওয়া শেষ করেই মুঠোফোনে পাবজি খেলতে বসে ফুরখান কুরেশি। টানা ৬ ঘণ্টা একটানা খেলে হেরে যায় সে। এর পরেই উত্তেজিত হয়ে বাকি খেলোয়াড়দের ওপর চিৎকার করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার সময় ফুরখানের বোন ফিজা তার পাশেই বসেছিল। সে বলে, আমার ভাই বন্ধুদের সঙ্গে পাবজি খেলছিল অনেকক্ষণ ধরে। হঠাৎ ও বলতে থাকে, ‘ক্যারি আউট দ্য ব্লাস্ট।’ এর পরই সে কেঁদে হেডফোন ও ফোন ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলে, ‘আয়ান, আমি তোমার সঙ্গে খেলব না। তোমার জন্যই খেলাটায় হেরে গেলাম।’

হৃদরোগ বিশেষঞ্জ অশোক জৈন বলেন, ছেলেটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন পালস পাওয়া যাচ্ছিল না, আমরা ইলেকট্রিক শক ও ইঞ্জেকশন দিয়ে তার হৃদপিণ্ড সচল করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই।

দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ফুরখান ভাল সাঁতার জানত। স্বজনরা জানিয়েছেন, তার কোনো হৃদরোগ ছিল না। তাদের বক্তব্য, তার এই আকস্মিক মৃত্যুর কারণ পাবজি-ই। খেলতে গিয়ে বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ায় অ্যাড্রিনালিন লেভেল বেড়েই এই দুর্ঘটনা।

‘পাবজি’ নামে এই অনলাইন গেম চালু হওয়ার পর থেকেই তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। অচেনা একদল খেলোয়াড় মিলে একে অন্যের বিরুদ্ধে বা অন্য কোনও দলের বিরুদ্ধে চলে যুদ্ধ। যে দল জেতে তারা পায় চিকেন ডিনার ও লড়াই করার জন্য বিভিন্ন অস্ত্র। অত্যধিক আকর্ষণের জন্য খেলোয়াড়রা দিন-রাত তাদের মোবাইলে মগ্ন থাকে, পারিপার্শ্বিক জগতের দিকে কোনো খেয়াল থাকে না।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই গেমের নেশা থেকে মুক্তি পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ এই গেম ও মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকতে হবে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই গেমের নেশা থেকে মুক্তি পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ এই গেম ও মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকতে হবে।

বর্তমানে অনলাইন গেমগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে প্লেয়ার আননোউন্‌স ব্যাটল গ্রাউন্ড (পাবজি)। কারও কারও এই গেমের আসক্তি এতোটাই তীব্র হয়ে পড়ে যে, তারা ভুলে যান চারপাশের সবকিছু। এজন্যই পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে গেমটি। ভারতেও কিছু কিছু জায়গায় গেমটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Comments