ফিচার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সর্বশেষ আইন-আদালত

পূর্বধলার পাঁচজনের বিষয়ে যেকোনো দিন রায়

পূর্বধলার পাঁচজনের বিষয়ে যেকোনো দিন রায়

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেত্রকোনার পূর্বধলার পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল সোমবার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

মামলার পাঁচ পলাতক আসামি হলেন আবদুল খালেক তালুকদার, শেখ আবদুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানা, কবির খান, আবদুস সালাম বেগ ও নূরউদ্দিন ওরফে রোদ্দিন। মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, অপহরণ ও ধর্ষণসহ তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সাতটি অভিযোগের ওপর গতকাল বিচার শেষ হয়। গতকাল ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন মোখলেছুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নী। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিয়োগ করা আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।

সাবিনা ইয়াসমীন খান মুন্নী জানান, এ মামলায় প্রথমে আসামি ছিলেন সাতজন। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই এক আসামি আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৬ সালে তিনি হাসপাতালে মারা যান। আহমদ আলী নামের এক আসামির মৃত্যু হয় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আগেই।

মুন্নী বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাকি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের কাছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে।’

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে মামলাটি করেন নেত্রকোনার পূর্বধলার মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির। একাত্তরে বড় ভাই আবদুল খালেককে হত্যা করার অভিযোগে এ মামলা করেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ২১ আগস্ট বাড়হা গ্রামে আবদুল খালেককে গুলি করে হত্যার পর কংস নদে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়। 

মামলাটি পরে পাঠানো হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশনে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রসিকিউশন বিভাগ ২০১৬ সালের ২২ মে আসামিদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করে। একই বছরের ১২ জুন অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

Comments