ফিচার বাংলাদেশ ক্যাম্পাস সর্বশেষ

ফ্রি সার্ভিসের কর্মচারীদের হাতে জিম্মি খুমেকের রোগীরা

ফ্রি সার্ভিসের কর্মচারীদের হাতে জিম্মি খুমেকের রোগীরা

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করতে প্রতি মাসেই কয়েক দফা অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ ও র‌্যাবের চালানো এই অভিযানে দালাল কিছুটা দমন হলেও তাদের সহযোগী ফ্রি সার্ভিস কর্মীরা এসব অভিযানের কোন তোয়াক্কাই করছেন না।

অভিযানের সময় তারা লুকিয়ে পড়লেও অভিযানের পরপরই তারা আবার বেরিয়ে আসছেন। হাসপাতালে সরকারীভাবে বরাদ্দ দেয়া অনেক সরঞ্জাম থাকলেও এই ফ্রি সার্ভিস কর্মীরা তা বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করছেন রোগীদের। বাইরে থেকে কেনা সরঞ্জাম আবারও তারা বিক্রি করে দিচ্ছেন বাইরে। এভাবেই চলছে তাদের রোগীদের ঠকানোর কাজ।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারতলায় মেডিসিন বিভাগের ৫ ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১১০ বছর বয়সী বদরুন্নেছা। নাক দিয়ে খাবার গ্রহণের জন্য লাগানো হয়েছে রাইস টিউব।

এটি তারা কিনেছেন হাসপাতালে সামনের ওষুধের দোকান থেকে। লাগাতে ১শ’টাকা দিয়েছেন ফ্রি সার্ভিসের এক কর্মচারীকে। এ রাইস টিউবটি লাগাতে একটি জেলিকা ও দু’টি গ্লাভসও কিনেছেন তিনি।

একই ইউনিটের অপর রোগী ওমর আলীও রাইস টিউব এবং ক্যাথেটার জেলিকা, গ্লাভস কিনেছেন বাইরে থেকে। কিন্তু এসব রোগীদের জন্য ফলিস ক্যাথেটার সরকারিভাবে সাপ্লাই ছিল।

বারান্দায় ভর্তি আছেন নিতাই নামে আরও একজন। ক্যাথেটার ও রাইস টিউব লাগাতে দুই দফায় ৪শ’ টাকা দিয়েছেন ফ্রি সার্ভিস কর্মীকে। সব মালামাল কিনে আনতে হয়েছে তাকে।

কিন্তু বাইরের ক্যাথেটার তাকেও পরানো হয়নি। হাসপাতাল থেকে সাপ্লাই করা ক্যাথেটার লাগানো হয়েছে। সরকারি সাপ্লাই থাকা সত্ত্বেও ক্যাথেটার রাইস টিউবসহ আনুষাঙ্গিক মালামাল বিনামূল্যে না পাওয়ায় কিম্বা কিনে আনার পরও হাসপাতালের সরঞ্জাম ব্যবহারে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা ।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শুধুমাত্র মেডিসিন বিভাগের ৫ ইউনিটেই অন্তত ১০ রোগীর সাথে এমনটি হয়েছে। মেডিসিন ৭-৮ ওয়ার্ডে অন্তত ৭ জন রোগীর সাথে সরেজমিনে কথা বলে জানা গেছে তারাও রাইস টিউব ও ক্যাথেটার বাইরে থেকে কিনে নিয়ে এসেছেন এবং প্রত্যেকেই তা লাগাতে ফ্রি সার্ভিস কর্মীকে ১শ’ থেকে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

মেডিসিন ৫ এ ওমর আলী নামে এক রোগীর স্বজন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন আমাদের অসুস্থ রোগীকে ভর্তি করার পর রাইস টিউব এবং ক্যাথেটার, জেলিকা, গ্লাভস কিনতে বাধ্য হয়েছি। সরকারিভাবে সাপ্লাই থাকার পরও আমাদেরকে ফের কিনতে বলা হয় তা খুব দুঃখজনক।

খুমেক হাসপাতালের স্টোর কিপার বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, হাসপাতালে বর্তমানে গ্লাভস, ফলিস ক্যাথেটার পর্যাপ্ত সাপ্লাই আছে। এছাড়া নতুন ভাবে ৬ হাজার রাইস টিউব সাপ্লাই এসেছে, যা ইতোমধ্যে সাব স্টোর কিপারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে সব কিছু সাপ্লাই দেয়ার পরও রোগীদেরকে রাইস টিউব এবং ক্যাথেটার জেলিকা, গ্লাভস কিনে আনতে বাধ্য করছে একটি অসাধু চক্র। ওই ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব করছে ফ্রি সার্ভিস নামধারী কিছু কর্মচারী। পরে তারা আবার বিক্রিও করছে সেই দোকানে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এ টি এম মোর্শেদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, যদি কোন ফ্রি সার্ভিসের কর্মীসহ অন্য কারও বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ আসে, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ রাশেদা সুলতানা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, হাসপাতালের রোগীদের প্রাপ্য ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী যা সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

এ সকল ওষুধ চুরির একটি চক্র সারা দেশেই বিভিন্নভাবে সক্রিয়। এসব সিন্ডিকেট এর বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাথেটার ও রাইস টিউব জালিয়াতির বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক এর সাথে আলোচনা করে এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

Comments