ফিচার বাংলাদেশ ক্যাম্পাস সর্বশেষ মতামত শিক্ষা

বিলুপ্ত হবে এনটিআরসিএ!

বিলুপ্ত হবে এনটিআরসিএ!

জাতীয় শিক্ষানীতির সুপারিশ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকদের দাবির পরও ঝুলেই গেছে শিক্ষক নিয়োগে বহু প্রতীক্ষিত শিক্ষা কর্মকমিশন গঠনের প্রক্রিয়া। জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে এ সংক্রান্ত সকল কাজ বন্ধ হয়ে আছে। এমনকি কমিশন গঠনের বিষয়ে সচিব কমিটির অনুমোদনের পরও চলে গেছে ৫ বছর। কমিশন গঠনের কাজ আগানোর পরিবর্তে এখন বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে যে প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হচ্ছে তা নিয়েও বেধেছে জটিলতা।

জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে নিয়োগের কথা বলা হলেও দিনের পর দিন অপেক্ষা করছেন আবেদনকারীরা। কোথায়, কীভাবে, কবে আসলে নিয়োগ হচ্ছে তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। আবার বিবন্ধনকারী ওই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় শত শত সনদ জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসায় নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়েই সন্দিহান সারাদেশের লাখ লাখ আবেদনকারী। অথচ শিক্ষানীতিতেই বলা হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগে হবে আলাদা কর্মকমিশন। যে কমিশন গঠনের পরই এনটিআরসিএ বিলুপ্ত করতে হবে।

শিক্ষানীতির সুপারিশ অনুসারে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার পর ঝুলে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও শিক্ষাবিদরা। ক্ষুব্ধ শিক্ষক সংগঠনের নেতারাও। কমিশন গঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষাবিদদের সুপারিশ মেনেই দ্রুত কাজ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল সরকার। সে অনুসারে ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর শিক্ষক নিয়োগে পৃথক কর্মকমিশন গঠনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকারের সচিব কমিটি। কমিটি একই সঙ্গে সেদিন শিক্ষা কর্মকমিশন গঠনের সারসংক্ষেপ যাচাই-বাছাই করে মতামত দেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেই পর্যন্তই। কিছু আমলার ফাইল চালাচালির মধ্যেই এখন আটকে আছে বহু প্রতীক্ষিক শিক্ষা কর্মকমিশন গঠন প্রক্রিয়া।

বিষয়টিতে হতাশ শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. শেখ ইকরামুল কবির। তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে সবার আগে দরকার দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক। দরকার স্বচ্ছ নিয়োগ। এ জন্য শিক্ষানীতিতেই বলা হয়েছিল, শিক্ষক নিয়োগে হবে আলাদা কর্মকমিশন। যে কমিশন গঠনের পরই এনটিআরসিএ বিলুপ্ত করতে হবে। কিন্তু কমিশনতো হয়নি। এনটিআরসিএ বিলুপ্ত হয়নি, একটু পদ্ধতি পাল্টে যেভাবে নিয়োগ হচ্ছে তাতে লাভ হচ্ছে না। তাই আমার আহ্বান থাকবে শিক্ষা কর্মকমিশন গঠনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে।

জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি ও শিক্ষা আইন প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলছিলেন, জাতীয় শিক্ষানীতিতে আমরা একটি সমন্বিত শিক্ষা আইনের কথা বলেছিলাম। তবে তা করতে হবে প্রচলিত আইনগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে। সব কিছু সমাধান করে খুব কম সময়েই খসড়াটি চূড়ান্ত করা সম্ভব। এ জন্য সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছাটাই সবচেয়ে জরুরি।

Comments