ফিচার বাংলাদেশ সর্বশেষ মতামত চাকরির বাজার

বেতন নয় নিয়োগ বাড়ান

বেতন নয় নিয়োগ বাড়ান

একটি সরকারি চাকরি নিমিশেই বদলে দেয় মানুষের জীবন। অভাবের সংসারে পুষ্টিহীনতায় ভোগতে ভোগতে গালের মাংস হারের সাথে লেগে বিকৃত চেহারার রুপ ধারণ করা মানুষ অল্প সময়ের ব্যবধানে হয়ে উঠে স্থুল মাংস যুক্ত মুখয়োবের এক অনন্য সুশ্রী মানুষ। মুহুর্তেই তার স্ট্যাটাস পরিবর্তন হয়ে যায়। সরকারি চাকরি নামক এ সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে অনেকে সর্বশান্ত হয় আবার কেউবা বড় বাবুর কদাকার মেয়েকে বিয়ে করে হলেও তা অর্জন করে। অন্তত এদেশে সরকারি চাকুরের বেতন যতটাই হোক না কেন রয়েছে উপরি ইনকাম। আর তাইতো জমি বিক্রি করে হলেও একটা সরকারি চাকরি চাই ই চাই। একবার পেয়ে গেলে কিনে নেবে বিঘা বিঘা এই ধারণাটাই এক শ্রেণীর মানুষকে অনৈতিক কাজে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। সরকারি চাকরি পাওয়া ব্যক্তির এ পরিবর্তনের জন্য প্রধানত যে বিষয়টি দ্বায়ী তা হলো কম সংখ্যক মানুষের সরকারি চাকরিতে সুযোগ পাওয়া। এতে করে যে কজন মানুষ সরকারি চাকরিটা পেয়ে যায় তারা সরকারের নানা কাজে নিজেরা সুযোগ গ্রহণ করে এবং অন্যদের সুযোগ পাইয়ে দেবার নামে উপরি ইনকাম করে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে দেখা গেছে সরকারের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে রয়েছে দালাল চক্র যারা সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় থেকে দালালবাজি কাজ করে থাকে। ঘুষ নামক মহাদানবটি তাই সহসায় তারানো যাচ্ছেনা বলেই মনে করি। পক্ষান্তরে যদি অধিক সংখ্যক মানুষ সরকারি চাকরি পেতো আর বেতন কাঠামো খুব একটা সাধারণ মানের হতো তাহলে দেখা যেতো এই চাকরি পেতে খুব একটা বেগ পেতে হতোনা আর অধিকাংশ মানুষ সরকারি চাকরির সুবিধা পেয়ে গেলে এখানে উপরি ইনকামের ঘটনাটিও ঘটতোনা। এমনকি দালালেরও যায়গা হতোনা। এর একটি বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি, ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যা গাড়ির সিট সংখ্যার চেয়ে বেশি হওয়ায় প্রতিটি পরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেয়ার একটা সুযোগ পেয়ে যায় পরিবহন শ্রমিকেরা। অথচ সারা বছর যাত্রির চাপ কম থাকায় কম ভাড়া নিয়েই পরিবহন সংশ্লিষ্টরা খুশি থাকে। তার মানে হলো সিটের থেকে যাত্রি বেড়ে গেলে যেমন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে বাড়তি ভাড়া নেয় পরিবহন ব্যবসায়িরা, সাথে থাকে দালাল চক্র তেমনি কম সংখ্যক পদের জন্য অধিক সংখ্যক প্রার্থী থাকায় চলে ঘুষের ছড়াছড়ি। আর ঘুষ দিয়ে চাকরিতে আসা কর্মকর্তা সারাক্ষণ ঘুষের ধান্দায় ব্যস্ত থাকবে এটিই স্বাভাবিক, নয় কি? এতে করে সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তির কাজের দক্ষতা বাড়ার বদলে কমে আসে আর তাতেই দেখা দেয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে জন দুর্ভোগ। মোট জনসংখ্যার যতসামান্যই সরকারি চাকরি পায় বলে তারা নিজেদের বিশেষ শ্রেণীর মানুষ মনে করতে শুরু করে এতে করে বেড়ে যায় সামাজিক অস্থিতিশীলতা। কম সংখ্যক সরকারি ডাক্তার থাকায় দেশের অনেক মানুষ চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম সংখ্যক এবং রয়েছে শিক্ষক সংকট ফলে মানুষ ছুটছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এতে বাড়ছে শিক্ষা ব্যয়। সরকারি ব্যাংকের সংখ্যা কম এবং কর্মকর্তা কম হওয়াতে তারা দ্রুত সেবা দিতে পারছেনা এতে করে মানুষ বেসরকারি ব্যাংকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যার ফলে অতিরিক্ত সুদ গুনতে হচ্ছে ঋণ গ্রহিতাদের। গবেষণায় অতি অল্প সংখ্যক মানুষ কাজ করছে তার কারণ অনেক বেশি গবেষণাগার নেই যতটুকো আছে তাতে অধিক সংখ্যক মানুষকে সুযোগ দেয়া যাচ্ছেনা এর প্রভাবে প্রতিনিয়ত সরকারকে প্রযুক্তি, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ সব কিছুই আমদানি নির্ভর করছে। এতে করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকারি কর্মকর্তাদের বার বার বেতন না বাড়িয়ে যদি অধিক সংখ্যক মানুষকে চাকরি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে। ভাঙ্গা চেহারার মানুষ হঠাৎ করে স্থুল হবেনা। কোন মানুষ নিজেদের বিশেষ শ্রেণীর মনে করবেনা ফলে আসবে সামাজিক স্থিতিশীলতা। চাকরি পেতে ঘুষ দিতে হবেনা ফলে দক্ষতা বাড়বে কর্মকর্তাদের। নিজেদের মধ্যে বাড়বে কর্মদক্ষতার প্রতিযোগিতা। শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় কমে আসলে কমে আসবে দরিদ্রের সংখ্যা বাড়বে সুখশান্তি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বার বার বেতন না বাড়িয়ে অধিক সংখ্যক মানুষের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করুন, গবেষণাগার স্থাপন করে সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তুলোন।

Comments