ফিচার বাংলাদেশ সর্বশেষ মতামত

ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে পেশাজীবীদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ প্রসঙ্গে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, আজ সেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ। সবাইকে এই প্রচেষ্টা করতে হবে, যাতে করে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে পারি।

তিনি বলেন, আমার মনে সব সময় একটি বিষয় থাকে যে, ভোট ও ভাতের অধিকারে যারা জীবন দিয়ে গেছেন, সেই ভোট ও ভাতের অধিকার যেন প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, সারা বিশ্বে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ চলছে। বাংলাদেশেও সে প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু আমি আন্তরিক ধন্যবাদ দেব আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সংস্থাগুলোকে। যাদের জন্য মানুষ নিরাপদে চলছে পারছে, আরামে ঘুমাতে পারছে। আজ আমরা কিন্তু জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি এসবের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই আপনারা যার যার জায়গা থেকে নিজের সাধ্যমতো দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন। আমরা যেন হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারি, বাংলাদেশ যেন বিশ্বের মানচিত্রে গৌরবের আসন পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তি ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয়। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ ও শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে গড়ে ওঠুক সেটিই আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য সব ক্ষেত্রে আমি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ইফতার মাহফিলে সমবেত সকল পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মাহে রমজান মাসে কোনো দোয়া করলে সেই দোয়া কবুল হয়। আমরা আপনাদের এইটুকু বলব, বাংলাদেশে সবসময় শান্তি- শৃঙ্খলা বজায় থাকে, বাংলাদেশের যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে তা যেন আমরা অব্যাহত রাখতে পারি। বাংলাদেশের একেবারে গ্রামের মানুষও যেন সুন্দর ও উন্নত-সুস্থ জীবন পায়, সেটিই কামনা করি। সে প্রচেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি।

ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষক, বিভিন্ন সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, কবি, লেখক, সংগীত শিল্পী এবং ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারের পূর্বে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টে শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদরের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, এটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম, দৈনিক জনকন্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান, বিচারপতি মেজবাউদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছের আলী, প্রকৌশলী ড. শামিমুজ্জামান বসুনিয়া, কৃষিবিদ মীর্জা আবদুল জলিল, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, এফবিসিসিআই-এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ারস বাংলাদেশ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, অর্থনীতি পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্ট (বিএফইউজে), ঢাকা ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্ট (ডিইউজে), জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর, আইসিটি ফোরাম, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ এবং সেক্টর কমান্ডাস্ ফোরামের নেতৃবৃন্দ ইফতারে মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

Comments