ফিচার বাংলাদেশ সর্বশেষ

মাত্র ৪ ঘন্টার বৃষ্টিতে বাঁচলো ১০ হাজার কৃষক

মাত্র ৪ ঘন্টার বৃষ্টিতে বাঁচলো ১০ হাজার কৃষক

নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ হলেও দিন দিন কমে আসছে নদীর সংখ্যা। অনেক স্থানে এখন নদী খোঁজ পাওয়াই কঠিন। নদ-নদী কমে যাওয়ার কারণে কমে আসছে পানির উৎসও। ফলে পানি সংকটে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে চাষাবাদ। বিশেষ করে আমন জমিতে এক সময় বোরো চাষ হলেও এখন অনেক আমন জমিতেই পানির অভাবে বোরো চাষ সম্ভব হয় না।

অনেক অনিশ্চিয়তার মাঝেও চলতি বোরো মৌসুমে হবিগঞ্জে চাষ অযোগ্য সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর আমন জমিতে বোরো চাষ হয়। কিন্তু যখন জমিতে (ফাল্গুন মাসের শেষ দিকে) ধান আসার কথা তখনই সেচের অভাবে জমি ফেঁটে চৌচির হয়ে যায়।

পানির অভাব দেখা দেয়ায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ে জেলার মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর বোরো ধান। মাথায় হাত পড়ে দুই উপজেলার প্রায় ১০ হাজার কৃষকের।

জমির অবস্থা দেখে কৃষকরা যখন দিশেহরা, তখন আশার আলো জাগিয়েছে মাত্র ৪ ঘন্টার বৃষ্টি। রোববার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে বৃষ্টি শুরু হয়। একটানা ৪ ঘন্টার বর্ষণে কৃষকের মনে রঙ্গিন স্বপ্নের অঙ্কুর জন্ম দেয়। বৃষ্টির পরশে ফেঁটে চৌচির হয়ে যাওয়া মাটিতে ফিরে প্রাণ, সতেজতা ছড়ায় ধানের গাছে।

চুনারুঘাটের কৃষক মতিন মিয়া বলেন, আমার প্রায় ৮ কের (১ কের সমান ৩২ শতক) জায়গায় বোরো আবাদ করেছি। পানির অভাবে ওই জমি থেকে ধান পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু রোববারের বৃষ্টিতে জমির অনেক ভালো হয়েছে। এখন আর বৃষ্টি না হলেও চলবে।

একই উপজেলার কৃষক মোতালিব হোসেন বলেন, পানির অভাবে আমনের জমিগুলোতে বোরো চাষ করা সম্ভব হয় না। তার পরও এবছর ৫ কের জায়গায় চাষ করেছিলাম। কিন্তু পানির অভাবে জমির মাটি ফেঁটে চৌচির হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রোববারে বৃষ্টিতে জমিগুলোর অনেক ভালো হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী বলেন, চাষ সংকটে আমন জমিতে বোরো আবাদে কৃষকরা মূখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু জেলা কৃষি অফিস থেকে বোরো চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় জেলায় মোট সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর আমন জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু সেচের অভাবে জমিগুলো নষ্ট হওয়ার পথে ছিল।

তিনি বলেন, রোববারের বৃষ্টিতে অনেক স্থানে বোরো ফসলের ক্ষতি হলেও হবিগঞ্জে হয়েছে ব্যতিক্রম। বৃষ্টির কারণে সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমি নষ্ট হওয়ার পথ থেকে বাঁচল। নাহলে অন্তত ১০ হাজার কৃষকের মাথায় হাত পড়ত।

Comments