ফিচার বাংলাদেশ ক্যাম্পাস সর্বশেষ

মেধাতালিকার ভিত্তিতে কলেজ বণ্টন করলে এই সমস্যা হত না

মেধাতালিকার ভিত্তিতে কলেজ বণ্টন করলে এই সমস্যা হত না

সম্প্রতি দেশে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রায় ৪০ হাজার শূন্যপদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এনটিআরসিএ। এনটিআরসিএ হল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ। এনটিআরসিএ-এর নিয়োগের এই গণবিজ্ঞপ্তিতে আশার আলো খুঁজে পেলেও চাকরিপ্রার্থীরা ভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। কারণ আবেদনের পদ্ধতিটি হল প্রতিষ্ঠানভিত্তিক। এর ফলে অর্থের অভাবে আবেদন করেত পারছেনা না নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অসংখ্য নিয়োগপ্রার্থী।

দেখা যাচ্ছে যে, এনটিআরসিএ-এর অদূরদর্শী গণবিজ্ঞপ্তিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লক্ষ চাকরিপ্রার্থী। এটি ঠিক যে, মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকা নিয়োগপ্রত্যাশীদের খুব বেশি প্রতিষ্ঠানে আবেদনের প্রয়োজন হবে না। পিছিয়ে থাকাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি আবেদন করতে হবে। যিনি যত বেশি আবেদন করবেন—তার নিয়োগ পাবার সম্ভাবনা তত বেশি। আবার মেধাতালিকায় এগিয়ে থেকেও শুধু আবেদন না করবার কারণে অনেকে নিয়োগ পাবেন না। কিন্তু এসকল সমস্যার মূলে রয়েছে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আবেদনের বিষয়টি।

এনটিআরসিএ’র গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সারা দেশে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ৩৯ হাজার ৫৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রথম হতে ১৪তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিয়োগপ্রত্যাশীদের এসব পদের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আবেদন করতে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত আবেদনগুলি জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে বাছাইপূর্বক বিধিমোতাবেক প্রতিটি পদের বিপরীতে একজন করে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হবে। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ১৮০ টাকা করে জমা দিতে বলা হয়েছে এনটিআরসিএ’র ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে। কিন্তু এর ফলে অনেক নিয়োগপ্রত্যাশীকেই নিয়োগপত্র পেতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে।

একদিকে আবেদনকারীদের মোটা অঙ্কের ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে মেধাতালিকায় এগিয়ে থেকেও শুধু আবেদনের সুযোগ না পেয়ে নিয়োগবঞ্চিত হবেন অনেক চাকরিপ্রার্থী। স্পষ্টতই, মেধাতালিকায় পিছিয়ে থাকা কোনো নিয়োগপ্রত্যাশীকে চাকরি নিশ্চিত করতে হলে অন্তত দুই-তিন হাজার প্রতিষ্ঠানেও আবেদন করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু এনটিআরসিএকেই দিতে হবে তিন-চার লক্ষ টাকা। এর বাইরে আবেদনের জন্য আরও অর্থ খরচ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অসংখ্য অসচ্ছল নিয়োগপ্রত্যাশীর পক্ষে এত টাকা খরচ করিবার সামর্থ্য নাই।

এর পরোক্ষভাবে অর্থের বিপরীতে মেধার প্রতি বৈষম্যও বটে। অথচ বিষয়ভিত্তিক আবেদন নিয়ে মেধাতালিকার ভিত্তিতে কলেজ বণ্টন করলে এই সমস্যা হত না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দেখা যাচ্ছে, এনটিআরসিএ-এর এই আবেদন প্রক্রিয়ায় যাদের নিয়োগ দেয়া হবে এবং যে সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া হবে— তারা কেউই সন্তুষ্ট নন। একদিকে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মোটা অঙ্কের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে কাকে কোন এলাকায় নিয়োগের সুপারিশ করবে— তারও কোনো নিশ্চয়তা নাই। অথচ নিজ এলাকায় পোস্টিং দিলে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক সুচারুভাবে কাজে মনোযোগ দিতে পারতেন। তাতে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই উপকৃত হয়ে থাকে। বিদ্যমান সমস্যার সমাধান কঠিন কোনো বিষয় নয়। এর জন্য এনটিআরসিএ-কে কেবল আন্তরিক হতে হবে।

Comments