ফিচার বাংলাদেশ রাজনীতি সর্বশেষ

লাঙ্গলে নয় নৌকায় ভোট চাইলেন জাপা’র মোজ্জাম্মেল!

লাঙ্গলে নয় নৌকায় ভোট চাইলেন জাপা’র মোজ্জাম্মেল!

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকে প্রার্থী থাকা স্বত্ত্বেও আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কার মনোনীত প্রার্থী টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেনের পক্ষে নৌকা প্রতিকে ভোট চাইলেন টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির কান্ডারীখ্যাত সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোজ্জাম্মেল হক।

শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল পৌরসভার তার নিজ এলাকায় পাতুলী পাড়া জামে মসজিদ মাঠে নির্বাচনী পথ সভায় তিনি ছানোয়ার হোসেনের জন্য নৌকায় ভোট চান। তবে একই আসনে নিজ দলীয় প্রার্থীর হয়ে ভোট প্রার্থনা না করে নৌকায় ভোট চাওয়ায় দলীয় অভ্যন্তরীন কোন্দল আবারো প্রকাশ্যে আসলো বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নির্বাচনী এলাকায়। ঘটনাটি এখন টক অব দা টাউনে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের কান্ডারি আলহাজ¦ মোজাম্মেল হকের বিশাল কর্মী সমর্থকরা নৌকার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নড়বড়ে হয়ে পড়েছে লাঙ্গলের অবস্থান।

ভোট প্রার্থনাকালে তিনি বলেন, নৌকায় ভোট চাইছি বলে আমি আওয়ামীলীগে যোগ দেইনি। টাঙ্গাইলে লাঙ্গল মানে মোজ্জাম্মেল হক, আর কোন কিছু নাই। কোন অতিথি পাখিরও লাঙ্গলে প্রয়োজন নাই। আমি এরশাদ সাহেবকে বলেছি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাওলাদারকেও বলেছি টাঙ্গাইলে লাঙ্গল মানে মোজ্জাম্মেল হক তা প্রমাণ করে দিব আমি।

এসময় আরোও বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরণ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুজ্জামান সোহেল, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মানিক, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীর,আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামীলীগের যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা নবীন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে জাতীয় পার্টির দুঃসময়ে টাঙ্গাইল জেলার হাল ধরেন আলহাজ¦ মোজাম্মেল হক। তিনি একক নেতৃত্বে ও অর্থায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে রাখেন। বিগত ২০০৯ সালের নির্বাচনে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল কাশেমকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং তিনি নির্বাচিতও হোন। পরবর্তীতে ঋণ খেলাপী মামলায় উচ্চ আদালতের আদেশে তার সংসদ সদস্য পদ চলে যায়। তখন নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থান করা জেলা বিএনপির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান সংসদ সদস্য হিসেবে ঘোষিত হন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে জয়লাভ করেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।

এ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকে মনোনয়নপ্রাপ্ত পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মনির প্রথমে এলাকায় দানবীর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি নির্বাচনের আশাবাদ ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নেওয়ার জোর চেষ্টা চালান। কিন্তু নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসলেও আওয়ামী লীগ থেকে কোন প্রকার সারা না পাওয়ায় তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। যোগদান করেই তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর উপদেষ্টা ও পরে জেলা জাতীয় পার্টির কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হন। এসময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোজাম্মেল হককে জাতীয় পার্টি থেকে বহিস্কার করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা অফিস তালাবদ্ধ করে দেন।

দীর্ঘদিন ধরে সুগঠিত জেলা জাতীয় পার্টিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মীই পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া শুরু করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির টাঙ্গাইল জেলার বৃহত অংশের সমর্থনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে নৌকার প্রার্থী।

Comments