ফিচার বাংলাদেশ সর্বশেষ শিক্ষা চাকরির বাজার

শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে ব্যাপক রদবদল

শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে ব্যাপক রদবদল

টানা দশ বছর ধরে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করে আসা ‘বিতর্কিত’ ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে। গতকাল ৪ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শামসুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। গত জানুয়ারি মাসে নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ডা. দীপু মনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই সবচেয়ে বড় রদবদল।

 

জানা যায়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা পিও, এপিওদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে যুক্ত স্কুল-কলেজ থেকে ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা বদলি, ভর্তি, জিপিএ পরিবর্তন, প্রশ্নফাঁস, চাকরি দেয়ার নামে ঘুষ নেয়া ও ডিআইএর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাসোহারা নেয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

বদলিকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন- শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুবায়েত হোসাইনকে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন), মন্ত্রীর একান্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. মুছিবুল হাসানকে যুগ্ম প্রধানের দপ্তরে, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফকর উদ্দিন তালুকদারকে মন্ত্রীর দপ্তরে, যুগ্ম প্রধানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. শাহ্‌ আলম সিরাজকে মন্ত্রীর একান্ত সচিবের দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।

অন্য এক আদেশে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরের অফিস সহায়ক সজীব চাকমাকে সমন্বয় শাখায়, মো. জলিলুর রহমানকে আইন-১ শাখায়, অফিস সহায়ক মো. আবু হানিফকে বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখায়, অফিস সহায়ক মো. মোকতার হোসেনকে অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়-১) শাখায় এবং মন্ত্রীর দপ্তরের সংযুক্ত প্লেইন পেপার কপিয়ার ও ঘুষের গ্রহণের অভিযোগে বরখাস্তকৃত মোহাম্মদ আলীকে সেবা শাখায় বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. নাহিদুজ্জামানকে প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখা থেকে মন্ত্রীর দপ্তরে, অফিস সহায়ক মো. আবু সায়েমকে অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়-১) শাখা থেকে মন্ত্রীর দপ্তরে, বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার অফিস সহায়ক শেখ মুক্তার মাহমুদকে মন্ত্রীর দপ্তরে, সমন্বয় শাখার কাজী আনিসুজ্জামন ও আইন-১ শাখার অফিস সহায়ক মো. নুরুজ্জামানকে মন্ত্রীর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে রাজধানী একটি স্কুল বন্ধ হওয়ার পর সেটি খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মোতালেব ও উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজন। দু্ইজনকে নগদ টাকা স্কুলের কাগজপত্র উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তদবিরে বাকিরা পার পেয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে তুমুল সমালোচনা ঝড় ওঠার পর দুইজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। দুদকের মামলায় মোতালেব ও নাসির এখন কারাগারে।

Comments