ফিচার বাংলাদেশ ক্যাম্পাস সর্বশেষ জীবন-শিল্প

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে মেয়র-ডিএমপি কমিশনার

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে মেয়র-ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীর বসুন্ধরায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে নর্দ্দা এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে গিয়ে তোপের মুখে পড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতেই বাধ্য হন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বসুন্ধরা গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর খানিকক্ষণ আগেই ওই এলাকায় একটি ফুটওভারব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মেয়র ও ডিএমপি কমিশনারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ সময় ডিএমপি কমিশনার শিক্ষার্থীদের বলেন, সুপ্রভাত পরিবহনের লাইসেন্স ও রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে আর এ বাস চলবে না। আর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জাবালে নূর পরিবহনের চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এসময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা ভুয়া, ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তাকে বক্তব্য থামাতে বলে শিক্ষার্থীরা বলেন, আপনারা এর আগেও কথা দিয়েছিলেন, সেই কথা রাখেননি। যার কারণে আবার আমাদের প্রাণ গেল, আবার আমাদের মাঠে নামতে হলো।

এসময় কমিশনার আরও বলেন, আপনারা আমাদের দমাতে পারবেন, মারতেও পারবেন, গালিও দিতে পারবেন কিন্তু আজ যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা শেষ হবে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে সমস্যার সমাধান করি। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে তিনি কথা বন্ধ করতে বাধ্য হন।

এর মধ্যে বিইউপি উপাচার্য মেজর জেনারেল এমদাদুল বারী শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করলে তখনও শিক্ষার্থীরা ভুয়া, ভুয়া স্লোগান দিতে থাকে। মানি না, মানব না, বিচার চাই, বিচার চাই, ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না, প্রশাসনের প্রহসন মানি না মানব না— এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। এসময় মেয়র আতিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনিও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন।

মেয়র শিক্ষার্থীদের বলেন, আমি তোমাদের ভাই। আমি তোমাদের নগরপিতা। আমি তোমাদেরই একজন প্রতিনিধি। আমি তোমাদের সঙ্গে আছি।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক আমাদের সবার দাবি। প্রধানমন্ত্রী এটির ব্যাপারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। আজকেই আমরা একটি মিটিংয়ে বসব। যত দ্রুত সম্ভব আমরা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন করার জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে শিক্ষক–ছাত্রসহ দুই থেকে তিনজনের প্রতিনিধির নাম দিতে বলা হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এটা চাওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাসহ যেকোনো বিষয় এখানে আলোচনা করা হবে। এর অগ্রগতি সাত দিন পরপর পর্যালোচনা করা হবে।

এসময় শিক্ষার্থীরা মেয়রকে মাইক ছেড়ে নেমে যাওয়ার আহ্বান জানান। এরপর মেয়র কথা বলতে চাইলেও আর বলতে পারেননি। পরে ডিএমপি কমিশনার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

Comments