ফিচার বাংলাদেশ সর্বশেষ আইন-আদালত শিক্ষা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযানে নামছে মন্ত্রণালয়

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযানে নামছে মন্ত্রণালয়

দেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে নামছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মূলত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি হাতেনাতে ধরতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আদলে আকস্মিক এ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অভিযানে প্রাপ্ত শিক্ষকদের উপস্থিতি, তাৎক্ষণিক ক্লাস রুমের পরিবেশ, লাইব্রেরি, টয়লেটসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে তাৎক্ষণিক শোকজ করতে পারবে টিম। পরবর্তীতে দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করবে। এরই প্রেক্ষিতে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর সেলিম মিয়া বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে গত ৬ই মার্চ রাজধানী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক একটি অভিযান চালানো হয়। এতে একটি স্কুলে মর্নিং শিফটের ৩৩ জন শিক্ষকদের মধ্যে ১৪ জনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রণালয়কে জানানো পর তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর দুটি স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শনে যান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা। এ সময় রাজধানীর গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের মর্নিং শিফটের ৩৩ শিক্ষকের মধ্যে ১৪ জনকেই অনুপস্থিত দেখতে পেয়েছেন। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭ জন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন।

অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং ও ইভালুয়েশন) অধ্যাপক ড. মো. সেলিম মিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব শিক্ষককে কারণ দর্শানো হবে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মোহাম্মদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহারের দাবি, ‘ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকায় অনুপস্থিত ১৭ জন শিক্ষককে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই তারা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত।’ যদিও ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষকদের এভাবে ছুটি দেয়ার কোন এখতিয়ার প্রধান শিক্ষকের নেই। যদি এমনটাই হয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আকস্মিক পরিদর্শনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এ কমিটিতে রয়েছেন অধিদপ্তরের মনিটরিং ও ইভালুয়েশন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম মিয়া। কমিটিতে আরও রয়েছেন উপপরিচালক সেলিনা জামান, মনিটরিং অফিসার মো. রোকনুজ্জামান, সহকারী পরিচালক লাইলুন নাহার এবং মনিটরিং অফিসার নজরুল ইসলাম।

কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার অনিয়ম-দুর্নীতি ধরতে নানা উদ্যোগের পরও নতুন কৌশলে দুর্নীতির জাল বিস্তার করছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। উন্নয়ন ও শিক্ষার মান প্রকল্পের নামে চলে অনিয়ম-দুর্নীতি। এসব অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ এবং শিক্ষার মান বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গঠন করা হয়েছে ‘সমন্বিত পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন নীতিমালা-২০১৯’। এর আওতায় ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষা খাতের আর্থিক, প্রশাসনিক, একাডেমিক, নিয়োগ, এমপিও, টিউশন ফি এবং উপবৃত্তিসহ বড় ৩০ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়বে। পুরো কাজটি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং’ (এমইডব্লিউ)। সমপ্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইনের নেত্বত্ব বৈঠকে নতুন এ সেলের অনুমোদন দেয়া হয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষা প্রশাসনে নাড়া দেয়ার মতো একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরজমিন এবং কখনো তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করবেন কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইটে প্রতিদিন যে তথ্য দেবে তার সঙ্গে গরমিল পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবেন কর্মকর্তা। এছাড়া মাউশির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অবস্থা জানতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন, নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের থাকবেন কর্মকর্তারা। তাদের মনিটরিং করা হবে ঢাকায় বসে। এজন্য এমইডব্লিউ সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি কম সময়ের মধ্যে একটি ওয়েব বেইজড মনিটরিং সিস্টেম চালু করবে।

Comments