ফিচার বাংলাদেশ ক্যাম্পাস সর্বশেষ

সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে ডাকসুর ভিপি-জিএসরা

সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে ডাকসুর ভিপি-জিএসরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবন সংলগ্ন বটতলা প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গৌরবের মাস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের সূচনালগ্ন থেকে একের পর এক ঘটতে থাকে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা। এই মার্চ মাস থেকেই বাংলাদেশের সবকিছু পরিচালিত হতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। তাই নানা কারণে মার্চ মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই মাসটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হল (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক)-এর ছাত্ররা সেসময় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন বলে উপাচার্য উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান আশা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হবেন তারা অতীতের ন্যায় অসাম্প্রদায়িক ও উদার নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাৎ বরণকারী ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। একই সাথে ঐতিহাসিক এই বটতলায় সমবেত হয়ে ১৯৭১ সালের ২রা মার্চে তৎকালীন ডাকসুর নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য যেসব ছাত্র নেতারা বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিলেন তাদের প্রতিও উপাচার্য শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় রচিত হয়েছে এই ২রা মার্চের বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত প্রথম পতাকা উত্তোলন। তিনি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন।

সভাপতির ভাষণে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ বলেন, ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতভয় ছাত্র সমাজ ও জনতা ঐতিহাসিক এই বটতলায় গর্জে ওঠে প্রথম উত্তোলন করেছিল বাংলাদেশের পতাকা। তার কিছুদিন পর ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে সারা দেশে অফিস-আদালত ও ঘরে ঘরে শোভা পায় এই পতাকা। এই পতাকার মর্যাদা আমাদের সবাইকে রক্ষা করতে হবে।

আলোচনা পর্ব শেষে প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী অনুপ ভট্টাচার্যের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করে দেশের গান।

Comments