ফিচার বাংলাদেশ সর্বশেষ জীবন-শিল্প অন্যান্য

হাতের লেখায় বুঝবেন মন খারাপ!

হাতের লেখায় বুঝবেন মন খারাপ!

চল্লিশ পার হওয়া এক নারী ভুগছিলেন ক্রনিক অ্যাজমায়। অনেক চিকিৎসকের কাছে গেলেও কোনো সুফল পাননি তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তার হাতের লেখা দেখে বোঝা গিয়েছিল, যে তার অ্যাজমা হয়নি। বরং পারিবারিক কারণে দিনের পর দিন উদ্বেগে আর উৎকণ্ঠায় থাকতেন তিনি। তার কারণেই শ্বাসকষ্টে ভুগতেন তিনি।

সম্পর্কে সমস্যাজনিত কারণে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন জানান একজন চিকিৎসক। এক সময় তার এই মানসিকতাই ফুটে উঠে তার হাতের লেখায় এবং মানসিক অবসাদের চিকিৎসা করানোর পর শেষ পর্যন্ত সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেন তিনি।

হাতের লেখা বিশ্লেষণ করে বা ক্লিনিক্যাল গ্রাফোলজির মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা করা যায় এই বিষয়ে সম্প্রতি একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে ভারতে।

 

উদ্বেগ, উৎকণ্ঠাজনিত রোগ কীভাবে বাসা বাধে শরীরে, সে কারণে রোগীর কেমন মানসিক অবস্থা হয়, কীভাবে তা প্রকাশ পায় হাতের লেখায় গত ১৫ বছর ধরে রোগীদের উপরে গবেষণা চালিয়ে সেই সব তথ্য সংগ্রহ করে সাইকোসোম্যাটিক ডিজ়অর্ডার অ্যান্ড হ্যান্ডরাইটিং নামের এই বইতে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রায় ১৫ হাজার রোগীর উপরে গবেষণা চালানো হয়েছিল। সংগ্রহ করা হয়েছিল তাদের হাতের লেখা। রোগের আগে এবং রোগ সময়ে তাদের হাতের লেখায় কী ধরণের পরিবর্তন হয়েছে তার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে থেকে প্রায় ৩০টির মতো উদাহরণ উল্লেখ রয়েছে এই বইটিতে।

ক্লিনিকাল গ্রাফোলজিস্টদের মতে, যে কোনো মানুষের হাতের লেখা স্নায়ুনির্ভর। ফলে মানসিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার কারণে হাতের লেখাও পাল্টাতে থাকে।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগে থাকলে কোনো ব্যক্তির হাতের লেখার উপরে তা সরাসরি প্রভাব ফেলে। এমন কি এই চাপে তরুণদেরও হাতের লেখা পাল্টাতে থাকে। আর পরিবর্তিত সেই হাতের লেখায় মানসিক উৎকণ্ঠার সব চিহ্নই উঠে আসে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

ক্রমাগত উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার কারণে শরীরে অনেক রোগ হয়। আর হাতের লেখা বিচার করে সেই সব রোগ চিহ্নিত করা সম্ভব। পৃথিবীর নানা দেশে এই ধরনের বইয়ের সংখ্যা প্রচুর।

Comments