ফিচার বাংলাদেশ রাজনীতি সর্বশেষ

১৯ দিনে বিএনপির ১১২ নেতা বহিষ্কার

১৯ দিনে বিএনপির ১১২ নেতা বহিষ্কার

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও দলের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপির তৃণমূলের নেতারা উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী হচ্ছেন। আর যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকে বহিষ্কার করছে বিএনপি। দলটির গত ১৯ দিনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য থেকে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিযোগে গত ১৯ দিনে ১১২ জন নেতাকে বহিষ্কার করছে বিএনপি।

বুধবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রেহানা বেগম হাসনা, নেত্রকোনা জেলাধীন খালিয়াজুরি উপজেলা বিএনপি নেতা মির্জা পারভেজ এবং মনোয়ারা বেগমকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে গত রোববার সিলেট, হবিগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, রাঙামাটি ও বান্দরবন জেলার ৮২ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি।

এদিকে বিএনপির প্রত্যেকটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বহিষ্কৃত সকল নেতার প্রাথমিক সদস্যপদ সহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হুঁশিয়ারি দেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির কোন নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। যদি কেউ দলের সিদ্ধান্ত বরখেলাপ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। তবে দলের এই নির্দেশ উপেক্ষা করে অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। আবার অনেক নেতা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

এবিষয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির দেশব্যাপী সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আগামী উপজেলা নির্বাচনে দলের কোন নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। যদি কেউ দলের সিদ্ধান্ত বরখেলাপ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিজভী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ছিল, উপজেলা নির্বাচনও একইভাবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। সুতরাং স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে উপজেলা নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কি? এই নির্বাচনও যে আগের দিন রাতেই অনুষ্ঠিত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গত ৫ ও ৬ মার্চ বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: মৌলভীবাজারে রেহানা বেগম হাসনা, নেত্রকোনার মির্জা পারভেজ, মনোয়ারা বেগম, মৌলভীবাজারের লিটন আহমেদ, শ্রীমঙ্গলের হেলেনা আক্তার চৌধুরী, আব্দুল মুয়ীন ফারুক, পারভীন আক্তার লিলি, চট্টগ্রামের এস এম ছলিম উদ্দিন চৌধুরী প্রকাশ খোকন চৌধুরী, আফরোজা বেগম জোলি, শাহ নেওয়াজ বেগম, শাহিদা আকতার শেফু।

এছাড়া হবিগঞ্জের এস এম শাহজাহান, মনজুর উদ্দিন আহমদ শাহীন, চুনারুঘাটের এস লিয়াকত হাসান, জেলা কৃষক দলের মাহবুবুর রহমান আওয়াল, মাধবপুরের আব্দুল আজিজ, বানিয়াচং উপজেলার তানিয়া খানম, সুফিয়া আক্তার হেলেন, বাহুবলের নাদিরা খানম, লাখাই যুবদলের তাউস আহমদ, সিলেটের মাজহারুল ইসলাম ডালিম, জিল্লুর রহমান সোয়েব, শামছুল আলম, মাওলানা রশীদ আহমদ, সোহেল আহমদ চৌধুরী, আব্দুর রহমান খালেদ, আশরাফ উদ্দিন রুবেল, নাজমা বেগম, স্বপ্না শাহীন, আবদাল মিয়া, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের খালেদুর রশীদ ঝলক, যুবদল নেতা সুন্দর আলী, জকিগঞ্জের ইয়াহইয়া বেগম, ছাত্রদলের ফজলে আশরাফ মান্না, গোয়াইনঘাটের লুৎফুল হক খোকন, শাহ আলম স্বপন, জয়নাল আবেদীন, মহিলা দলের খোদেজা বেগম কলি, জৈন্তাপুরের আব্দুল হক, বিশ্বনাথের মিসবাহ উদ্দিন আহমদ, আহমদ নূর উদ্দিন, জুবেল আহমদ, নুরুন্নাহার ইয়াসমিন, কোম্পানীগঞ্জের লাল মিয়া, আবিদুর রহমান, ফেঞ্চুগঞ্জের ওয়াহিদুজ্জামান সুফী, মনির আলী নানু মিয়া, হারুন আহমদ চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম মুরাদ, সাহেদ আহমদ, ফেরদৌসী ইকবাল, বালাগঞ্জের গোলাম রব্বানী, সেবু আক্তার মনি। বগুড়ার মাছুদুর রহমান (হিরু মণ্ডল), টিপু সুলতান, রাফি পান্না, সারিয়াকান্দির গোলাপী বেগম, সোনাতলার জিয়াউল হক লিপন, রঞ্জনা খান, নয়নতারা, শিবগঞ্জের মোছা. বিউটি বেগম, নন্দীগ্রামের আলেকজান্ডার, এ কে আজাদ, কাহালুর শাহাবুদ্দিন, মমতাজ আরজু কবিতা, ধুনটের আখতার আলম সেলিম, আলিমুদ্দিন হারুন, সদর থানার মোছা. নাজমা আক্তার, মাহিদুল ইসলাম গফুর, শাজাহানপুরের আবুল বাশার, জাহেরুল ইসলাম, সুলতান আহম্মেদ, মোছা. জুলেখা বেগম, মোছা. কোহিনুর বেগম, রহিমা খাতুন মেরি, ডা. মেহেরুল আলম মিশু, আনোয়ার এহসানুল বাশার জুয়েল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সুরাইয়া জেরীন রনি, গাবতলীর তাহমিনা আকতার রুমা, শ্যামল সরকার। নওগাঁর নিয়ামতপুরের সদরুল আমিন চৌধুরী, মোছা. মনোয়ারা বেগম, মান্দার আহসান হাবীব, সাপাহার উপজেলার জয়নুল আবেদীন, আশরাফুল ইসলাম, ধামইরহাটের হিলা মোছা. শাহিনা, রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের নূর নাহার বেগম, নানিয়ারচরের নুরুজ্জামান হাওলাদার, রাঙামাটির রনো চাকমা, বান্দরবানের আবদুল কুদ্দুছ, আবুল কালাম, শিরিন আক্তার, রুমা উপজেলার জিমসম লিয়ান বম ও হামিদা চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

Comments