ফিচার বাংলাদেশ ক্যাম্পাস সর্বশেষ জীবন-শিল্প শিক্ষা

২য় দিনের মত অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকরা

২য় দিনের মত অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকরা

চাকরি স্থায়ীকরণ অথবা পরবর্তী প্রকল্পে স্থানান্তরের দাবিতে ২য় দিনের মত অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষকরা (এসিটি)। সোমবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

রোববার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষকরা এ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এসিটি অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৌশিক চন্দ্র বর্মন। অবস্থান কর্মসূচির দুই দিন অতিবাহিত হলেও সরকার বা শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোন প্রকার যোগাযোগ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক নেতা রাফিউল ইসলাম রাফি, শহিদুল ইসলাম, রইজ উদ্দিন, ওসমান গণি প্রমূখ।

কৌশিক চন্দ্র বর্মন বলেন, শিক্ষার্থীদের জোড়ে পড়া রোধ করতে এসে নিজেরাই এখন জড়ে পড়তে যাচ্ছি। আমাদের যাবার কোন পথ নেই। আমরা সমাজের কাছে লাঞ্চিত হচ্ছি, বাবা মায়ের কাছে মুখ দেখাতে পারছি না। আমাদের চাকুরির বয়স শেষ। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় আজ আমরা রাস্তায় এসে নেমেছি। আমাদের স্থায়ী করণের প্রজ্ঞাপন লিখিত আকারে না পাওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাব। পরবর্তীতে আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচির দিকে এগিয়ে যাব।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চাকরি স্থায়ীকরণের সুপারিশের চিঠি উপেক্ষা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের রাখতে চাচ্ছে না। তাহলে সেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কে আছে, কারা আছে? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিএনপি জামায়াতের দোষররা চক্রান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি উপেক্ষা করে আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণে বাধার সৃষ্টি করছে। আমরা অবিলম্বে স্থায়ীকরণের লিখিত নোটিসসহ স্কুলে ফিরে যেতে চাই। মৌখিক আশ্বাসে আমরা এতদিন ক্লাস করে এসেছি।’

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টে (সেকায়েপ) নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষকদের (এসিটি) চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাঁচ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও মৌখিক আশ্বাসে ক্লাস করে আসছি। চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কয়েক দফা মানববন্ধন করেছি। আশ্বাস অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে নতুন প্রকল্প এসইডিপিতে সেকায়েপের বিভিন্ন কম্পোনেন্টের (পাঠাভ্যাস ও উপবৃত্তি) কার্যক্রম চালু হলেও এসিটিদের চাকরি স্থায়ী করার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এতে চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন অভিজ্ঞ এ শিক্ষকরা।

জানা যায়, মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত সেকায়েপ প্রকল্পের অধীনে দুর্গম ৬৪টি উপজেলার ১ হাজার ১শটি স্কুলে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ে ছয় হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ‘সেকায়েপ’ প্রকল্পে এসিটি কম্পোনেন্টটি যুক্ত হয়, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ফিরিয়ে আনা, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে অভিভাবকদের সমন্বয় সভা, অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে কোচিং বাণিজ্য, বাল্য বিবাহ ও শিশু নির্যাতন বন্ধসহ নানা ধরণের ইতিবাচক কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পন্ন করতে এডিশনাল ক্লাসরুম টিচার (এসিটি) প্রচেষ্টা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে।

অপরদিকে, সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) প্রকল্পে রিসোর্স টিচার (আরটি) পদে ১ হাজার ৪শ ৪৩ জন শিক্ষক রয়েছে। ২০১৭ সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে এসব শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। সেকায়েপ প্রকল্পটির মেয়াদ সে বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। এমপিওভুক্তির দাবিতে ২০১৮ সালের শুরু থেকে কয়েক দফায় এ প্রকল্পের শিক্ষকরা দাবি আদায়ে সংবাদ সম্মেলনসহ সারাদেশে মানববন্ধন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন।

Comments