ফিচার আন্তর্জাতিক রাজনীতি সর্বশেষ

‘১০০-র বেশি আসন পাবে না মোদির দল’

‘১০০-র বেশি আসন পাবে না মোদির দল’

ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৩ আসনের মধ্যে ১০০–র বেশি আসন পাবে না মোদির দল বিজেপি। রোববার এক সমাবেশে এ কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি জনতার চৌকিদার নন। দেশকে লুঠ করার চৌকিদার। নোট বাতিলের চৌকিদার। ‌বিজেপি বিদায় নিলে নতুন সরকার এলে সব দুর্নীতির তদন্ত হবে। সাহস থাকলে আমার সঙ্গে বিতর্কে বসুন। বিজেপি–র অত্যন্ত খারাপ দিন আসছে। ভোটের পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঠিক হবে। নরেন্দ্র মোদি সামান্য ব্লকের নেতা হওয়ারও যোগ্য নন। অথচ তিনি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আবার বলছি, বাংলা থেকে বিজেপি শূন্য পাবে।’

অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তমে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর সভায় এসব কথা বলেন মমতা। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর তুমুল প্রশংসা করে তার জন্য ভোটও চাইলেন। তিনি বাংলায় বললেন, ‘চন্দ্রবাবু নাইডু ভাল কাজ করেছেন। তাকে ভোট দিন।’

সভায় নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা শ্লোগান দেন ‘মোদি হঠাও, দেশ বাঁচাও।’

এদিন বিশাখাপট্টমে রওয়ানা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। স্বৈরাচারী শাসন চলছে। ক্ষুদ্রস্বার্থ ত্যাগ করে বৃহত্তর স্বার্থে মোদির বিরুদ্ধে একসঙ্গে ভোট দিতে হবে। মোদিকে জবাব দেবে জনগণের ফ্রন্ট। গোটা ভারতেই অস্থিরতা চলছে। বাক্‌ স্বাধীনতা নেই। চলছে সন্ত্রাস। গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে।’

রোববার দুপুরের বিমানে বিশাখাপত্তমে যান মমতা। সভা সন্ধ্যে ৬টায় শুরু হলেও মমতা মঞ্চে পৌঁছন ৭টায়। প্রায় ৪৫ মিনিট ভাষণ দিয়ে সভা মাতিয়ে তোলেন। প্রিয়দর্শিনী স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় ভরা। মমতাকে জনতা করতালিতে, স্লোগানে অভিনন্দিত করে। মমতাকে এক নজর দেখতে বহু নারী সভায় এসেছিলেন। তারা মমতাকে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

মমতা এন টি রামা রাওয়ের আবক্ষ মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। চন্দ্রবাবুসহ টিডিপি–র নেতারা তাকে মঞ্চে স্বাগত জানান। উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। এছাড়া ছিলেন লোকসভা ও বিধানসভায় টিডিপি প্রার্থীরা। কেজরিওয়াল, নাইডুও এদিন মমতার সুরে সুর মিলিয়ে মোদি হঠানোর ডাক দেন।

অন্ধ্রে এবার লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। দিনভর প্রচার চলছে। স্টেডিয়ামের ওই সভায় অনেকেই মমতার ছবি লাগানো প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসেছিলেন।

মমতা অঙ্কের হিসেব দিয়ে বলেন, ‘কোথা থেকে আসন পেয়ে বিজেপি এবার ক্ষমতায় আসবে? ৫৪৩ আসনের মধ্যে ১০০–র বেশি আসন ওরা পাবে না। তাই মুখে যত বড় বড় কথাই বলুক, বিজেপি কিন্তু আর ফিরছে না। ওরা ফিরলে দেশের সর্বনাশ হয়ে যাবে।’

মমতা বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোদি কোনও সাংবাদিক বৈঠক করেননি। অথচ আমি প্রায় প্রতিদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হই। এ নিয়ে একটা ডিবেট হয়ে যাক। মোদি প্রশ্ন করবেন, আমি উত্তর দেব। বক্তৃতা দেওয়ার সময় টেলিপ্রম্পটারে লিখিত বক্তৃতা পড়েন। রাফাল ইস্যুতে তিনি নীরব ছিলেন। যে নেতা দেশকে বেচে দেন, তেমন নেতা আমরা চাই না। মোদি প্রধানমন্ত্রী এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। প্রতিদিন মিথ্যে কথা বলছেন।’

পুলওয়ামার ঘটনার কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘জওয়ানদের ওপর হামলা কেন হল? এই হামলার খবর আগাম জানতেন প্রধানমন্ত্রী। জওয়ানদের নিয়ে তিনি রাজনীতি শুরু করেছেন। মোদির দিন শেষ হয়ে এসেছে। আর মাত্র কদিন বাকি।’

মোদির সঙ্গে অমিত শাহর নাম জুড়ে দিয়ে মমতা বলেন, ‘এই দু’জন সব দলকে ধমকাচ্ছেন। এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন। প্রতিবাদ করলেই গ্রেপ্তারের হুমকি দিচ্ছেন। এসব আর চলবে না। নির্বাচনের পর ইউনাইটেড ইন্ডিয়া তৈরি হবে। আমরা অভিন্ন কর্মসূচি তৈরি করব। দেশে ফিরে আসবে শান্তি। নোট বাতিলের সময় মোদি বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদীদের কার্যকলাপ বন্ধ হবে। নোটবাতিলের পর সন্ত্রাসবাদীদের কার্যকলাপ বেড়ে গেছে। কাশ্মীরের সমস্যা আজও মেটাতে পারেননি। নতুন সরকার এলে সেখানে শান্তি ফিরে আসবে।’

তিনি আরো জানান, ‘আগামী ৪ এপ্রিল কোচবিহার থেকে আমি প্রচার শুরু করব। পরের দিন যাব আসামের ধুবড়িতে। সেখানে গোটা দুয়েক সভা করব। ফিরে আসব কলকাতায়। এবার আমাকে প্রায় ১০০ নির্বাচনী সভা করতে হবে। অন্য রাজ্যে হয়ত আর যাওয়া যাবে না। কিন্তু মোবাইলে বক্তৃতা শোনানো হবে।’

সূত্র: আজকাল

Comments